Skip to main content

TEBHAGA MOVEMENT- BENGALI

 

তেভাগা আন্দোলন


তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। তেভাগা শব্দের আভিধানিক অর্থ ফসলের তিন অংশ। প্রচলিত অর্থে ভাগচাষি তাদের ভাগচাষের অধিকারস্বরূপ উৎপাদনের সমান অংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ পাওয়ার অধিকারী। ভূমি নিয়ন্ত্রণের শর্তাদি অনুযায়ী শস্য ভাগাভাগির বিভিন্ন পদ্ধতি বর্গা, আধি, ভাগি ইত্যাদি নামে পরিচিত। ১৯৪৬-৪৭ সালে ভূমিমালিক এবং ভাগচাষিদের মধ্যে উৎপাদিত শস্য সমান দুই ভাগ করার পদ্ধতির বিরুদ্ধে বর্গাদাররা প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৪৬ সালে আমন ধান উৎপাদনের সময়কালে বাংলার উত্তর এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাসমূহের কিছুসংখ্যক ভাগচাষি এবং তাদের সমর্থক নিজেদের উৎপাদিত ফসল কাটতে নিজেরাই মাঠে নামে, এমনকি নিজেদের খলানে তা ভানতে নিয়ে যায়। দুটি কারণে এটি বিদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত। প্রথমত, তারা দাবি করে যে, অর্ধেক ভাগাভাগির পদ্ধতি অন্যায়। উৎপাদনে যাবতীয় শ্রম এবং অন্যান্য বিনিয়োগ করে বর্গাচাষি; উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পুঁজি বিনিয়োগ, শ্রম এবং অবকাঠামোতে ভূমি মালিকের অংশগ্রহণ থাকে অতি নগণ্য। এ কারণে, মালিকরা পাবেন ফসলের অর্ধেক নয়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। দ্বিতীয়ত, বর্গাচাষিরা দাবি করেন যে উৎপাদিত শস্যের সংগ্রহ মালিকদের খলানে রাখা এবং সেখান থেকে সমান সমান খড় ভাগাভাগি করার নিয়ম আর মান্য করা হবে না, সংগৃহীত ফসল থাকবে বর্গচাষিদের বাড়িতে এবং ভূমিমালিক খড়ের কোনো ভাগ পাবেন না।

মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা। তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়। ভূমি মালিকরা ভাগচাষিদের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তারা পুলিশ দিয়ে আন্দোলনকারীদের অনেককে গ্রেফতার করে এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। কিন্তু জমিদারদের দমন-পীড়ন আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারে নি। অপ্রতিরোধ্য ভাগচাষিরা পরবর্তীকালে তাদের লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে জমিদারি প্রথা বিলোপের ক্ষেত্রে একটি নতুন শ্লোগান যোগ করে। বর্গাচাষিদের সমর্থনে পরিচালিত তেভাগা আন্দোলনে এ শ্লোগানের সূত্রে খাজনার হার কমে আসার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়।

তেভাগা আন্দোলনের অগ্রবর্তী ধাপ হিসেবে কৃষকরা কোনো কোনো এলাকাকে তেভাগা এলাকা বা ভূস্বামী মুক্ত ভূমি হিসেবে ঘোষণা করে এবং তেভাগা কমিটি স্থানীয়ভাবে সেসব এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তেভাগা আন্দোলনের চাপে অনেক ভূস্বামী তেভাগা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেন এবং তাদের সাথে আপস করেন। যশোর, দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়ি তেভাগা এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে সম্প্রসারিত তেভাগা এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় মেদিনীপুর এবং চবিবশ পরগনা। এ সকল ঘটনায় সরকার প্রাথমিকভাবে ১৯৪৭ সালে বিধানসভায় একটি বিল উত্থাপনে প্রণোদিত হয়। বিলটি কৃষকদের মধ্যে বিরাজমান অসমুতষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে বর্গা প্রথা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু সমকালীন অন্যান্য রাজনৈতিক ঘটনা সরকারকে বর্গা আইন অনুমোদনে অসুবিধায় ফেলে। দেশবিভাগ এবং নতুন সরকারের অঙ্গীকার এ আন্দোলনকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়।

তেভাগা আন্দোলন সফল হওয়ার ফলে শতকরা ৪০ ভাগ বর্গাচাষি ভূমিমালিকদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় তেভাগা প্রাপ্ত হন। এ আন্দোলন আবওয়াবএর নামে বলপূর্বক অর্থ আদায় বন্ধত বা সীমিত করে। তবে পূর্ববাংলার জেলাসমূহে আন্দোলনটির সফল্য ছিল সীমিত। ১৯৪৮-৫০ সালের দিকে তেভাগা আন্দোলনে আরেক দফা সংগঠিত হয়। সরকার এ আন্দোলন ভারতীয় দালালদের আন্দোলন বলে চিহ্নিত করে। সাধারণ মানুষও তা বিশ্বাস করে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ থেকে নিজেদের বিরত রাখে। তবে আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%A8 

Comments

Popular posts from this blog

Growth vs Development- ENGLISH

  Economic growth is the increase in goods & services produced by an economy or nation, considered for a specific period of time. The rise in the country’s output of goods and services is steady and constant and may be caused by an improvement in the quality of education, improvements in technology, or in any way if there is value addition in goods and services which is produced by every sector of the economy. It can be measured as a percentage increase in real gross domestic product. Where a gross domestic product (GDP) is adjusted by inflation. GDP is the market value of final goods & services which is produced in an economy or nation. Economic Development is the process focusing on both qualitative and quantitative growth of the economy. It measures all the aspects which include people in a country become wealthier, healthier, better educated, and have greater access to good quality housing. Economic Development can create more opportunities in the sectors of education, ...

ETHNIC CONFLICTS AND MOVEMENTS IN INDIA BY Prof. Somenath Bhattacharjee and Nijora Sharma

  MULTIETHNICITY AND EMERGING CHALLENGES – SOME ISSUES OF NORTH EAST INDIA By: Somenath Bhattacharjee [1] and Nijora Sharma [2] Abstract :   Since India’s independence Northeastern region of India has been witnessing episodes of secessionist and insurgency related violence and conflict. The problem has become more complex, as the region is inhabited by people belonging to different racial stock, speak different languages and have varied socio-cultural tradition. Census data of our country is reflecting their increase of population and better accessibility of livelihood amenities but on the other hand they are fighting for the same geographical space to protect and preserve their identity and culture. Illegal immigration from neighbouring countries, has aggravated the problem as it has reduced the number of indigenous people to minority in some parts of the region. Though the Sixth Schedule of the Constitution of India has become an important tool to provide special prote...

LAND REFORMS- BENGALI

  ভূমি সংস্কার English ভূমি সংস্কার  সরকার কর্তৃক ভূমির উৎপাদন সম্পর্কিত সামগ্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তন সূচিত করে এমন ব্যবস্থা। ভূমি সংস্কার বিষয়ে একটি বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১৯৪০ সালে, বেঙ্গল ল্যান্ড রিফর্মস কমিশন নামে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে। এর চেয়ারম্যান ছিলেন স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউড। কমিশনটিতে বড় বড় জমিদারদের (ভূস্বামী) প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ফ্লাউড কমিশন জমিদারি প্রথা বিলোপসাধন করার সুপারিশ করেছিল, ভূমিচাষিদের ওপরে রাজস্ব-আদায়কারী স্তর-উপস্তর ছিল, স্বভাবত তাদেরও অস্তিত্ব বিলোপের সুপারিশ ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, জমিদারদের ইচ্ছাতে নতুন নতুন মধ্যস্বত্ব সৃষ্টি করার যে প্রথা ছিল (যার ফলে অসংখ্য মধ্যস্বত্বের উদ্ভব হয়েছিল ও যাদের একমাত্র ভূমিকা ছিল নিম্ন স্বত্বাধিকারীদের নিকট থেকে খাজনা আদায় করা) তার অবসান ঘটানো। কমিশন শীর্ষে অবস্থিত সরকার এবং নিম্নে কৃষক শ্রেণি এ দুয়ের মধ্যবর্তী সমস্ত মধ্যস্বত্বের বিলুপ্তি ঘটাতে চেয়েছিল। এছাড়া ভবিষ্যতে নতুন মধ্যস্বত্ব সৃষ্টির অধিকারও কেড়ে নেওয়ার বিধান সুপারিশ করা হয়। কিন্তু কমিশনের সুপারিশের আওতায় সেসব বর্গাচাষি বিবেচ্য ...